অরণ্যক
দ্বারা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
অরণ্যক
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অরণ্যক, সত্যচরণের চোখে ভারতের পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক দৃশ্যের একটি মর্মস্পর্শী অন্বেষণ। সত্যচরণ একজন শহরবাসী যে একটি বিশাল বনাঞ্চলের ব্যবস্থাপনার চাকরি নেয়।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
সত্যচরণ। কলকাতার নাগরিক জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে, ভাগ্যের ফেরে সে এসে দাঁড়ায় লবটুলিয়ার এক বিশাল, রহস্যময় অরণ্যের দোরগোড়ায়। তার কাঁধে ভার, এই আদিম জঙ্গলকে সভ্যতার প্রয়োজনে তছনছ করে চাষযোগ্য জমি বের করে আনা। কিন্তু জঙ্গল কি এত সহজে ধরা দেয়? সে যখন বিশাল শালবনের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন বাতাসের শব্দে এক প্রাচীন স্পন্দন অনুভব করে সে। ঠিক যেন অরণ্যের এক বুকভরা দীর্ঘশ্বাস।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘Aranyak (Of the Forest)’ কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি প্রকৃতির সাথে মানুষের সেই আদিম সম্পর্কের এক আখ্যান। সত্যচরণের অন্তরে এক অদ্ভুত দোটানা—একদিকে তার পেশাগত দায়িত্ব, অন্যদিকে অরণ্যের নিরপরাধ আদিবাসীদের সরল জীবন।
মনে পড়ে সেই দৃশ্যটি? সত্যচরণ বনের গভীর ছায়ায় বসে আছে, চারপাশটা ভোরের কুয়াশায় ঢাকা। ঘাসের ওপর শিশির জমছে, আর দূরের পাহাড়ে সূর্য ওঠার অপেক্ষায় জঙ্গল যেন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে। সেখানে এক বৃদ্ধা ভিখারিণী তাকে বলেছিল, “বাবা, এই বন আমাদের মা, একে তোমরা ধ্বংস করো না।” [short pause] সত্যচরণের বুকের ভেতর তখন এক অজানা আতঙ্ক—সে বুঝতে পারে, তার হাতের কলম আর সরকারি আদেশের আঘাতে এই অরণ্য কেবল ধ্বংসই হচ্ছে না, সে নিজের আত্মার এক টুকরোও হারিয়ে ফেলছে।
বিভূতিভূষণ যেন প্রকৃতির ভাষাকে শব্দে অনুবাদ করেছেন। তাঁর লিখনশৈলী এমন যে, পাঠক চোখের সামনে দেখতে পায় গাছের পাতা থেকে ঝরা আলোর খেলা। তিনি লেখেন, “অরণ্যের এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা আছে, যা মানুষের কোলাহলকে তুচ্ছ করে দেয়।” [medium pause]
এই বইয়ের প্রকৃত দর্শন হলো—মানুষের তথাকথিত উন্নয়ন আসলে প্রকৃতির প্রতি এক নীরব অপরাধ। ক্ষমতা আর লোভের দাপটে আমরা কী হারাচ্ছি, তা সত্যচরণের চোখের মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কি সে পারবে তার মানবিক সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে? নাকি বন ধ্বংসের অপরাধী হয়েই তাকে ফিরে যেতে হবে শহরের ধূসর অলিগলিতে? [long pause]
এই অরণ্যের হাতছানি বড়ই গভীর। লবটুলিয়ার সেই রহস্যময় নির্জনতায় একবার হারিয়ে গেলে, আপনি আর কোনোদিন আগের মতো ফিরবেন না। ‘Aranyak (Of the Forest)’ পড়ার সময় আপনার মনে হবে, বন যেন আপনার সাথেই কথা বলছে। বইটি পড়ুন, আর জানুন প্রকৃতির আর্তনাদ আসলে কতটা করুণ।