তমস
দ্বারা ভীষ্ম সাহনি
তমস
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
তমস, যার অর্থ অন্ধকার, একটি শক্তিশালী উপন্যাস যা ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের ভয়াবহতাকে তুলে ধরে। এটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কবলে পড়া সাধারণ মানুষের চোখের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
একটি শহরের শান্তি যখন একটি মিথ্যা সংকেতের আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে, তখন সেই আগুনের শিখায় মানুষের মনুষ্যত্বই সবচেয়ে আগে পুড়ে ছাই হয়। ভিশম সাহনির ‘Tamas’ উপন্যাসের মূল বৈপরীত্য ঠিক এখানেই—যেখানে ধর্মের নামে পবিত্রতার দোহাই দেওয়া হয়, সেখানেই ধর্মের দোহাই দিয়ে সবচেয়ে অমানবিক কাজগুলো সম্পাদিত হয়।
নাথু নামের এক দরিদ্র চামার, যে নিজের অজান্তেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়, যখন একটি শুকর মারার মিথ্যে নাটকে অংশ নেয়, তখন সে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে তার এই ছোট ভুলটিই এক বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের বারুদ হয়ে উঠবে। আকাশটা তখন গুমোট হয়ে আছে। বাতাসে বারুদের গন্ধ আর মানুষের অকারণ আর্তনাদ। নাথুর মনের ভেতর তখন দুরুদুরু কাঁপুনি; সে ভাবছে, “আমি তো শুধু নিজের কাজটুকু করেছি, তবে কেন পৃথিবীটা আজ আমার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত?” [short pause]
এই উপন্যাসের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যটি মনে পড়ে—যেখানে দাঙ্গার আগুনে পুড়ে যাওয়া এক ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের পরিচয় ভুলে কেবল বেঁচে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে। ভিশম সাহনি যখন লেখেন, “মানুষ তখন আর মানুষ থাকে না, হয়ে ওঠে কেবলই দাঙ্গার জ্বালানি,” তখন পাঠক শিউরে ওঠে। [sigh]
এই বইয়ের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো—ক্ষমতার রাজনীতির খেলায় সাধারণ মানুষ কেবলই ঘুঁটি। ঘৃণা যখন ধর্মের মুখোশ পরে আসে, তখন তা মানুষের বিচারবুদ্ধি হরণ করে। লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে দেখিয়েছেন, কীভাবে সাম্প্রদায়িকতা কেবল বাড়িঘর ধ্বংস করে না, বরং এটি মানুষের ভেতরের সেই কোমল জায়গাটিকেও চিরতরে মৃত করে দেয়। সাহনির ভাষা যেন ধারালো তলোয়ার; তিনি অপ্রয়োজনীয় অলংকার ছাড়াই বাস্তবতাকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা প্রতিটি পাতায় এক গভীর ক্ষত তৈরি করে। [medium pause]
‘Tamas’ কোনো সাধারণ গল্প নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত বিবেকের কাছে এক নিরন্তর প্রশ্ন। ঘৃণা কি সত্যিই কোনো সমাধান আনে? নাকি এই বিভাজন শুধু ইতিহাসকে রক্তে রাঙিয়ে রেখে যায়? এই অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবং মানুষের অন্ধকার দিকটির মুখোমুখি দাঁড়াতে হলে এই বইটি প্রতিটি মানুষের একবার অন্তত পড়া উচিত। শেষে কী হলো? নাথু কি বেঁচে ফিরল? নাকি সেই ঘৃণার আগুনে সেও বিলীন হয়ে গেল? উত্তরের জন্য আপনাকে এই অনন্য অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতেই হবে।