যযাতি
দ্বারা ভি.এস. খান্ডেকর
যযাতি
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
যযাতি হল ভি.এস. খান্ডেকরের একটি পৌরাণিক উপন্যাস, যিনি ভারতের অন্যতম সাহিত্য সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার বিজয়ী। উপন্যাসটি মহাভারত থেকে রাজা যযাতির গল্পকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
মহারাজ যযাতি—যাঁর চোখের দৃষ্টিতে চিরযৌবনের তৃষ্ণা আর হৃদয়ে অতৃপ্ত বাসনার দাবানল। তিনি সিংহাসনে বসে আছেন, কিন্তু তাঁর রাজমুকুট যেন আগুনের মতো জ্বলছে। তিনি পৃথিবীর সব সুখ ভোগ করেছেন, তবু তাঁর মনে হচ্ছে তিনি কিছুই পাননি। রাজা যযাতি এমন এক মানুষ, যিনি নিজের বার্ধক্যকে অন্যের যৌবনের বিনিময়ে কিনে নিতে চান। এক অসম্ভব লোভ, যা তাঁকে মনুষ্যত্বের সীমা ছাড়িয়ে এক অন্ধকার গোলকধাঁধায় নিয়ে যায়।
একটি দৃশ্য আজও আমার মনে গেঁথে আছে। প্রাসাদের অন্দরমহলে ধূপের ধোঁয়া আর চন্দনের মিষ্টি গন্ধ ভাসছে, আর ম্লান আলোর নিচে দাঁড়িয়ে আছেন বৃদ্ধ রাজা। তিনি তাঁর পুত্র পুরুকে বলছেন, “পুরু, আমার এই জরাগ্রস্ত দেহ, এই কম্পমান হাত—তুমি কি তোমার যৌবন দিয়ে আমাকে মুক্তি দিতে পারবে?” পুরু স্তব্ধ। সেখানে এক নিস্তব্ধতা নেমে আসে [medium pause]। যযাতির অন্তরের হাহাকার কেবল তাঁর একার নয়, এ যেন মানুষের চিরন্তন তৃষ্ণার প্রতিচ্ছবি। তিনি মনে মনে ভাবছেন, “যতটুকু ভোগ করছি, তার চেয়ে বেশি কি লুকিয়ে আছে দিগন্তের ওপারে?”
ভি.এস. খান্ডেকর এই উপন্যাসে এক অসাধারণ কারুকার্য দেখিয়েছেন। তিনি মানুষের চিরন্তন বাসনাকে নিপুণভাবে ব্যবচ্ছেদ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ভোগের আগুন কখনো নিভে যায় না, বরং তা আহুতি দিলে আরও দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।” এই বাক্যটিই যেন বইটির প্রাণ। যযাতির জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ক্ষমতার শীর্ষে বসেও মানুষ কতটা একা আর অসহায় হতে পারে।
লেখকের গদ্যশৈলী যেন রূপকথার মতো গভীর, কিন্তু তার শিক্ষা মাটির পৃথিবীর মতোই কঠিন। যযাতি শুধুই পৌরাণিক চরিত্র নন, তিনি আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই লোভের রূপ যা আমাদের কখনো তৃপ্ত হতে দেয় না [short pause]।
শেষ পর্যন্ত কি যযাতি খুঁজে পাবেন তাঁর শান্তির পথ? নাকি এই অনন্ত যৌবনের সন্ধানে তিনি নিজেকেই হারিয়ে ফেলবেন অতল গহ্বরে? এই প্রশ্নই পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। আপনি কি জানতে চান, শেষমেশ কার জয় হলো—মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষার, নাকি সময়ের নিয়তির? উত্তরটি লুকিয়ে আছে এই কালজয়ী উপন্যাসের পাতায়। [sigh] এটি কেবল একটি গল্প নয়, মানুষের অস্তিত্বের মুখোমুখি হওয়ার এক আয়না।