মাত্থু এস্থেরু
দ্বারা কে.পি. পূর্ণচন্দ্র তেজস্বী
মাত্থু এস্থেরু
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
কে.পি. পূর্ণচন্দ্র তেজস্বী রচিত
মূল অন্তর্দৃষ্টি
অনিশ্চয়তার এক গভীর শিহরণ আর প্রকৃতির সাথে মানুষের নিগূঢ় সম্পর্কের বিস্ময়—এই অনুভূতিই ‘Matthu Estheru’ বইটির প্রাণ। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার গহীন কফি বাগানে যখন কুয়াশা নেমে আসে, তখন মানুষের তৈরি আধুনিকতা আর আদিম অরণ্যের প্রাচীন সত্যের যে দ্বন্দ্ব ফুটে ওঠে, তা পাঠককে মুহূর্তেই অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।
কে.পি. পূর্ণচন্দ্র তেজস্বী এই উপন্যাসে এক অদ্ভুত মায়াজাল বুনেছেন। মনে পড়ে সেই দৃশ্যটি? [short pause] কফি বাগানের স্যাঁতসেঁতে ভেজা মাটির গন্ধ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাপিয়ে অরণ্যের নিস্তব্ধতা যখন জাঁকিয়ে বসে। তেজস্বীর কলমে প্রকৃতি কোনো পটভূমি নয়, বরং সে এক জীবন্ত চরিত্র। তিনি লিখেছেন, “অরণ্যের প্রতিটি পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে এমন এক ইতিহাস, যা মানুষের ভাষায় লেখা হয় না।” [medium pause]
এই উপন্যাসে তেজস্বী আধুনিক উন্নয়নের দম্ভকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। মানুষের লোভ আর প্রকৃতির ভারসাম্যের এই লড়াইয়ে লেখক দেখিয়েছেন, আমরা আসলে প্রকৃতির মালিক নই, বরং তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। তেজস্বীর লেখনশৈলী ব্যতিক্রমী; তিনি বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের সাথে লোকজ প্রজ্ঞার এক অপূর্ব মিলন ঘটিয়েছেন। তার গদ্য যেন বৃষ্টির পর ভেজা মাটির ঘ্রাণের মতো—সতেজ, খাঁটি এবং গভীর।
একটি সংলাপে দুই চরিত্রের দ্বৈরথ লক্ষ্য করার মতো। সেখানে আধুনিক নগরায়ণের প্রতিনিধি যখন উন্নয়নের কথা বলে, তখন প্রবীণ চরিত্রটি শান্ত গলায় উত্তর দেয়— “তুমি যা জয় করতে চাইছো, তা তোমার হাতের মুঠো থেকে বালি হয়ে ঝরে পড়বে, যদি না তুমি তার ছন্দের সাথে সুর মেলাতে পারো।” [long pause]
মানুষের ভেতরের সেই আদি ভয় আর অজানাকে জানার তীব্র তৃষ্ণাই এই বইয়ের মূল চালিকাশক্তি। তেজস্বী আমাদের মনে করিয়ে দেন, প্রকৃতি আমাদের জয় করার বস্তু নয়, বরং সহাবস্থানের অংশীদার। কেন আমরা প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই পাঠক এক অদ্ভুত আচ্ছন্নতায় তলিয়ে যায়।
বইটির শেষ পাতায় পৌঁছানোর পরেও মনে প্রশ্ন জাগবে—মানুষ কি পারবে সেই হৃত সম্মান ফিরিয়ে দিতে, যা সে অরণ্যের কাছে হারিয়েছে? রহস্যের সেই ধূসর কুয়াশা কাটবে কি? সেই উত্তর জানতে হলে ‘Matthu Estheru’-র পাতায় ডুব দিতেই হবে।