চাণক্যের মন্ত্র
দ্বারা অশ্বিন সাঙ্ঘি
চাণক্যের মন্ত্র
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
প্রাচীন ভারতীয় কৌশলবিদ চাণক্য এবং একজন সমসাময়িক রাজনৈতিক কারসাজিকারী পণ্ডিত গঙ্গার জীবনকে একত্রিত করে লেখা একটি আকর্ষণীয় দ্বৈত-আখ্যানের উপন্যাস।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
অশ্বিন সাংঘি যখন ‘Chanakya’s Chant’ লিখতে শুরু করেন, তখন তাঁর মাথায় ছিল ইতিহাসের এক চিরন্তন প্রশ্ন—ক্ষমতার নেশা কি সত্যিই মানুষের স্বভাবকে বদলে দেয়, নাকি মানুষ একই পুরনো ছকে যুগে যুগে নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে? এই বইটির জন্ম এক গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে, যেখানে তিনি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রনীতি আর আধুনিক রাজনীতির কূটকৌশলকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে দিয়েছেন।
গল্পের প্রেক্ষাপট দুই সময়ের স্রোতে বিভক্ত। একদিকে আড়াই হাজার বছর আগের মগধের রাজদরবার, যেখানে চাণক্য প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছেন নন্দ বংশকে ধ্বংস করার জন্য। অন্যদিকে, সমকালীন ভারতের প্রেক্ষাপট, যেখানে পণ্ডিত গঙ্গাসাগর মিশ্র তাঁর মগজ আর চাল দিয়ে তৈরি করছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
একটি দৃশ্যের কথা মনে পড়ে—চাণক্যের সেই নিস্তব্ধ ঘর, যেখানে তেলের প্রদীপটি কাঁপা কাঁপা আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে পাথরের দেওয়ালে। বাতাসে চন্দনের ঘ্রাণ আর পুড়িয়ে ফেলা তালপাতার কটু গন্ধ। সেখানে চাণক্য একা বসে আছেন, কিন্তু তাঁর দৃষ্টি যেন বহু দূরের কোনো অনাগত সময়ের দিকে। তিনি গুনগুন করে বলছেন, “পুতুলগুলো যতবারই নাচুক না কেন, সুতোটা কিন্তু আমার হাতেই থাকে।”
এরকমই এক দৃশ্যে পণ্ডিত গঙ্গাসাগর মিশ্র তাঁর শিষ্যকে বলছেন, “রাজনীতি মানে নীতি নয়, রাজনীতি হলো গণিত। যেখানে যোগ-বিয়োগের চেয়েও বড় বিষয় হলো—কাকে কখন নিশ্চিহ্ন করতে হবে।” এখানে চাণক্য বা গঙ্গাসাগর কেউই নায়ক নন, আবার খলনায়কও নন। তাঁরা হলেন ইতিহাসের সেই স্থপতি, যারা নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে একটি বৃহত্তর ‘লক্ষ্য’ হাসিলের নেশায় মত্ত।
অশ্বিন সাংঘি এখানে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, তলোয়ারের ধার আর আজকের দিনের মিডিয়া ট্রায়াল—দুটোর লক্ষ্যই এক: জনমতকে নিয়ন্ত্রণ করা। এই বইটির মূল নির্যাস হলো, ক্ষমতার লোভ কখনোই নতুন কিছু নয়। এটি একটি বৃত্ত, যা বারবার ঘুরে আসে।
অশ্বিন সাংঘি তাঁর লেখনীতে চমৎকার এক ঘোর তৈরি করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ইতিহাস কেবল অতীত নয়, এটি ভবিষ্যতের একটি আয়না, যা কেবল তাদেরই সত্য দেখায় যারা এর ধুলো পরিষ্কার করতে জানে।”