এক পালো
দ্বারা সুরেশ জোশী
এক পালো
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
সুরেশ জোশীর আধুনিকতাবাদী ছোট গদ্যের একটি সংকলন, যা ক্ষণস্থায়ী মুহূর্ত, মানব চেতনা এবং নীরবতা ও স্মৃতির গুরুত্ব অন্বেষণ করে। এটি আবেগপূর্ণ ক্ষুদ্র রচনাগুলির মাধ্যমে এই বিষয়গুলি তুলে ধরে।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
সুরেশ যোশীর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক বিশাল রহস্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল—শব্দের অরণ্যে হারিয়ে গিয়ে তিনি বুঝতে চেয়েছিলেন, মানুষ আসলে ঠিক কতটা একাকী। আমাদের অস্তিত্বের অসারতা আর সময়ের ক্ষণস্থায়ী দাপট তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। সেই অস্তিত্বের টানাপোড়েন থেকেই তিনি লিখেছিলেন ‘Ek Palo’।
একটি স্থির ঘরের নিস্তব্ধতা কল্পনা করুন। জানলার ওপারে ম্লান বিকেলের আলো এসে পড়েছে মেঝেতে, যেখানে ধুলিকণাগুলো বাতাসে অলস নৃত্যে মগ্ন। ঘরের কোণে রাখা শূন্য চেয়ারটি যেন এক বিশাল হাহাকারের প্রতীক। ঠিক এই দৃশ্যটিই সুরেশ যোশীর কলমে প্রাণ পায়, যেখানে তিনি লিখছেন—”স্মৃতি যখন আয়নায় মুখ দেখে, তখন সে নিজেরই অচেনা এক প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায়।” [short pause]
এরকমই এক মূহুর্তে কথোপকথনের এক আশ্চর্য অংশ মনে পড়ে, যেখানে চরিত্রের নীরবতা শব্দের চেয়েও ভারী হয়ে ওঠে। একজন অপরজনকে জিজ্ঞেস করছে, “সবকিছু কি এভাবেই মিলিয়ে যাবে?” দ্বিতীয়জন উত্তর দেয়, “মিলিয়ে যাওয়া মানেই তো শেষ হওয়া নয়, হয়তো তা কেবল অন্য কোথাও নিজের অস্তিত্বের পুনর্নির্মাণ।” এই কথোপকথনে সুরেশ যোশীর নিজস্ব এক দার্শনিক সুর লুকিয়ে আছে—যা পাঠককে বাধ্য করে নিজের জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভাবতে।
এই ‘Ek Palo’ কোনো সাধারণ গল্প সংকলন নয়; এটি মানুষের অবচেতন মনের এক আয়না। সুরেশ যোশী এখানে আমাদের শেখাতে চেয়েছেন যে, প্রেম, মৃত্যু আর একাকীত্ব আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তার গদ্যের বুনন এতটাই সূক্ষ্ম যে, মনে হয় প্রতিটি শব্দ কোনো এক ধ্যানের পর উঠে এসেছে। [sigh]
তার এই অসামান্য লেখনশৈলীর প্রমাণ মেলে এই পঙক্তিটিতে: “শূন্যতার ভার যখন মানুষের বুকের ওপর এসে নামে, তখন সে বুঝতে পারে মহাকালের কাছে তার এক একটা মুহূর্ত আসলে কতটা অসহায়।”
শেষ পর্যন্ত কি মানুষ তার অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষার কোনো অর্থ খুঁজে পায়? নাকি সবকিছুই কেবল এক মরীচিকা? সুরেশ যোশীর এই সৃষ্টি আপনাকে জীবনের এক গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে, যেখানে উত্তর পাওয়ার চেয়ে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়াটাই বেশি জরুরি। আপনি কি প্রস্তুত সেই অদেখা সত্যের মুখোমুখি হতে?