লালসালু
দ্বারা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
লালসালু
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
লালসালু, যা বৃক্ষহীন বৃক্ষ নামেও পরিচিত, এটি বাংলাদেশের সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি ধর্মীয় শোষণ, কুসংস্কার এবং গ্রামীণ বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা অন্বেষণ করে।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
শুনতে অবাক লাগবে, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অমর সৃষ্টি ‘Lalsalu (Tree Without Roots)’ লেখার সময় তিনি নিজে এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের মতো এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করার সময় তিনি এই উপন্যাসের নাম রেখেছিলেন ‘গাছ নেই যার শিকড়’। এটি কেবল একটি বই নয়, এটি এক দগদগে বাস্তবতার আয়না।
মহব্বতনগর গ্রাম। চারদিকে ভ্যাপসা গরম, ধুলোবালি আর মানুষের হাহাকার। হঠাৎ একদিন এক আগন্তুক এসে আবির্ভূত হয়। সে মজিদ। তার পরনে দীর্ঘ আলখাল্লা, চোখে এক অদ্ভুত সম্মোহনী দৃষ্টি। সে গ্রামের অখ্যাত এক ঝোপঝাড়ের নিচে একটি মাটির ঢিবিকে মাজার ঘোষণা করে। [short pause] বাতাসের ভেতর তখন ভয়ের গন্ধ। মানুষ বিশ্বাস করে নিল, এই মাজারই তাদের ভাগ্য বদলে দেবে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লিখেছেন, “শক্তিশালী মানুষগুলোও যখন অসহায় হয়, তখন তারা খড়কুটো আঁকড়ে ধরতেই পছন্দ করে।”
একটি দৃশ্য আজও আমার মনে গেঁথে আছে। মজিদ তার তরুণী স্ত্রী জمیলাকে শাসন করতে চাইছে। জمیলা অবাধ্য, তার চোখে কোনো ভয় নেই। মজিদ ফিসফিস করে বলে, “তুমি কি জানো না, মানুষ যা বিশ্বাস করে, তা-ই সত্য?” জمیলা সরাসরি উত্তর দেয়, “যে সত্যের ভিত্তি মিথ্যার ওপর, তা কি কখনো টেকে?” মজিদ তখন স্তব্ধ হয়ে যায়। [medium pause] তার ভেতরে তখন এক ভয়াবহ দোটানা। সে কি আসলেই ধার্মিক, নাকি সে নিজেই নিজের তৈরি মিথ্যার শিকার?
এই উপন্যাসের আসল দর্শন হলো—শোষণ কেবল বন্দুকের নলে হয় না, বিশ্বাসের ছিদ্র দিয়েও হয়। মানুষ যখন অন্ধবিশ্বাসে নিমজ্জিত থাকে, তখন মজিদের মতো চতুররা সেই অন্ধকারকে পুঁজি করে সাম্রাজ্য গড়ে। ওয়ালীউল্লাহর ভাষার জাদু এখানেই যে, তিনি মজিদকে ভিলেন হিসেবে আঁকেননি, বরং দেখিয়েছেন এক মানুষ কীভাবে ক্ষমতার মোহে নিজেকেই হারিয়ে ফেলে।
প্রকৃতির উত্তাল অস্থিরতা আর মানুষের অন্তরের কুসংস্কারের এই অদ্ভুত মেলবন্ধন আপনাকে শেষ পর্যন্ত এক অজানা আতঙ্কে আটকে রাখবে। মজিদের এই কৃত্রিম ক্ষমতার পতন কি সত্যিই অনিবার্য? নাকি আমাদের চারপাশের সমাজে শিকড়হীন গাছের মতো এমন মাজার আজও বেঁচে আছে? [long pause] সেই উত্তর খুঁজতেই আপনাকে এই বইয়ের পাতায় ডুব দিতে হবে।