সুনেহাদে
দ্বারা অমৃতা প্রীতম
সুনেহাদে
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
সুনেহাদে অমৃতা প্রীতমের একটি মর্মস্পর্শী কবিতার সংকলন। এই সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কাজটি দেশভাগের কারণে সৃষ্ট গভীর দুঃখ ও স্থানচ্যুতি নিয়ে আলোচনা করে।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় পাঞ্জাবের আকাশ যখন ধোঁয়ায় আর আর্তনাদে ঢাকা পড়ল, তখন এক তরুণী কবির হৃদয়ে জন্ম নিল এক তীব্র হাহাকার। অমৃতম প্রীতম, যিনি নিজের চোখে দেখেছিলেন বিভাজনের নৃশংসতা, ঠিক সেই মুহূর্তে কলম তুলে নিয়েছিলেন এক অমোঘ প্রয়োজনে—মানুষের যন্ত্রণা আর হারানো মাটির শোককে অমর করে রাখার জন্য। এই ব্যক্তিগত অস্থিরতা থেকেই জন্ম নিল অমর কাব্যসংকলন “Sunehade (Messages)”। এই বইটির মূল কথা খুব সহজ: ঘৃণা আর সীমানা দিয়ে মানুষের মনকে ভাগ করা যায় না, কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে ক্ষত সারিয়ে তোলা সম্ভব।
অমৃতম প্রীতম মূলত একজন দ্রষ্টা। তিনি লিখেছেন— “আমি এক জ্যান্ত কবরের মতো, যেখানে সময়ের সব বেদনা জমা হয়ে আছে।” এই বাক্যটিই বলে দেয়, তিনি কেবল ইতিহাসের সাক্ষী ছিলেন না, বরং তিনি নিজেই ছিলেন এক জীবন্ত ইতিহাস। তার প্রতিটি কবিতায় ফুটে উঠেছে দেশভাগের আগেকার পাঞ্জাবের সেই ঐশ্বর্যময় দিনগুলোর কথা, যেখানে ধর্মের চেয়ে মানুষের সম্পর্কের টান ছিল অনেক বেশি গভীর। তিনি দাবি করেন যে, শিল্পই হলো যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক। তার মতে, যেখানে রাজনীতি ব্যর্থ হয়, সেখানে কবির অসম্পূর্ণ আর্তিই মানুষকে পুনরায় এক হওয়ার স্বপ্ন দেখায়।
অনেকে অবশ্য প্রশ্ন তোলেন, কবির আবেগী ভাষা কি বাস্তব রাজনীতির কঠোরতাকে বদলে দিতে পারে? অমৃতম প্রীতম তার উত্তর দেন ক্ষমা আর সহমর্মিতার দর্শনে। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যতক্ষণ না নিজের ভেতরের ‘দেশভাগ’ ঘোচাতে পারছে, ততক্ষণ কোনো সীমানাই স্থির নয়। [sigh] তার ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা ছিল পাঞ্জাবের মাটি, যা তাকে শিখিয়েছিল যে ধ্বংসস্তূপ থেকেও নতুন করে বেঁচে ওঠার নামই জীবন।
এই বইটির মূল সুর হলো—পৃথিবীটা মানুষের গড়া কাঁটাতার নয়, বরং ভালোবাসার এক অবিভাজ্য ঠিকানা। অমৃতম প্রীতমের এই অসাধারণ সৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ঘৃণা নয়, বরং সহমর্মিতাই হলো সভ্যতার শেষ ভরসা। আজকের অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন আমরা আবার নতুন কোনো দেয়াল গড়ার কথা ভাবছি, তখন এই কাব্যগ্রন্থটি পড়ে দেখা কি আমাদের জন্য জরুরি নয়? কী সেই বার্তা যা তিনি আজও আমাদের শুনিয়ে যেতে চান? সেই উত্তরের খোঁজে আজই ডুব দিন “Sunehade (Messages)”-এর পাতায়।