ব্যাবিলনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি
দ্বারা জর্জ এস. ক্লাসন
ব্যাবিলনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
প্রাচীন ব্যাবিলনের পটভূমিতে ব্যক্তিগত আর্থিক নীতির একটি ক্লাসিক সংগ্রহ।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
আপনি কি জানেন, ১৯২৬ সালে প্রকাশিত ‘The Richest Man in Babylon’ বইটি মূলত ক্ষুদ্র প্রচারপত্রের এক সংকলন হিসেবে শুরু হয়েছিল, যা পরে পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী আর্থিক নির্দেশিকায় পরিণত হয়? জর্জ এস. ক্ল্যাসন এই বইটি লিখেছিলেন কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, সম্পদ কেবল ভাগ্য নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের ফসল। এই বইটির মূলমন্ত্র হলো: আয় থেকে কিছু অংশ আলাদা করে সরিয়ে রেখে এবং বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে যে কেউ নিজের ভাগ্য বদলে ফেলতে পারে।
বইটিতে ক্ল্যাসন প্রাচীন ব্যাবিলনের গল্পের ছলে জীবনের আসল সত্যগুলো তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, “সোনার প্রাচুর্য তাদেরই ধরা দেয়, যারা আয়ের অন্তত দশ ভাগের এক ভাগ ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখে।” এর মানে হলো, আমরা যা আয় করি, তার একাংশ আমাদের নিজেদের পকেটে আগে ঢোকাতে হবে। এটি কেবল একটি পরামর্শ নয়, বরং নিজের পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানানোর উপায়।
বইটিতে তিনটি প্রধান দাবি করা হয়েছে। প্রথমত, খরচ নিয়ন্ত্রণ করা। অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতাকে ত্যাগ করে আয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, দক্ষ মানুষের পরামর্শ নেওয়া। ক্ল্যাসন বলেন, “নিজের অজ্ঞতাকে সঙ্গী করে বিনিয়োগ করা মানেই সোনার বিনাশ ডেকে আনা।” তৃতীয়ত, নিজের অর্জনের ক্ষমতা বা দক্ষতা প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে তোলা। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যখন নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করে, তখন তার আয়ের পথও প্রশস্ত হয়।
অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, আজকের এই আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক যুগে পুরনো ব্যাবিলনের নিয়ম কি আদৌ কার্যকর? ক্ল্যাসনের উত্তর হলো—লোভ এবং ভয় চিরন্তন, ঠিক যেমন অংকের নিয়ম। যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সময় তার বন্ধু হয়ে দাঁড়ায়। লেখক কোনো জাদুকরী উপায়ের প্রতিশ্রুতি দেননি, বরং তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে ধৈর্য এবং সুশৃঙ্খল অভ্যাসের মাধ্যমে দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
একজন ১২ বছরের কিশোরকেও যদি বইটি বোঝাতে হয়, তবে সহজ কথায় বলতে গেলে—নিজের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ আগে নিজেকে দাও এবং তারপর সেই অর্থকে খাটতে শেখাও। এটাই হলো সম্পদ তৈরির আদি ও অকৃত্রিম সূত্র।
আপনি কি প্রস্তুত সেই প্রাচীন কিন্তু চিরনতুন জ্ঞানের সন্ধান করতে, যা আপনাকে আপনার আর্থিক স্বাধীনতার দরজায় পৌঁছে দেবে? একবার ভেবে দেখুন, আপনার আজকের একটি সিদ্ধান্তই কি আগামী দিনের সম্পদ গড়ার সূচনা হতে পারে না?