ওয়ান অ্যারেঞ্জড মার্ডার
দ্বারা চেতন ভগত
ওয়ান অ্যারেঞ্জড মার্ডার
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
করওয়া চৌথের রাতে সৌরভ মহেশ্বরীর বাগদত্তা প্রেরণা মালহোত্রাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে পুলিশ এটিকে দুর্ঘটনাজনিত পতন বলে রায় দেয়।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
খুশির উৎসব মানেই নতুন সম্পর্কের শুরু, কিন্তু সেই উৎসবে যদি মৃত্যুর ঠান্ডা হাত জড়িয়ে ধরে? কারবা চৌথের চাঁদের আলোয় যেখানে প্রিয়ার সাজে সেজে ওঠার কথা ছিল, সেখানে এক তরুণী পড়ে রইল রক্তাত্ব অবস্থায়। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি সাজানো কোনো মায়াজাল?
চেতনের ‘One Arranged Murder’ বইটির শুরুতেই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যায়। একি অদ্ভুত ট্র্যাজেডি যে, জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনে প্রথাগত সম্পর্কের চাপে এক প্রাণ ঝরে পড়ে? সৌরভ মহেশ্বরী আর কেশব রাজপুরোহিত—দুই বন্ধু, যাদের পরিচয় এক অদ্ভূত ডিটেক্টিভ এজেন্সি চালানোর মাধ্যমে। পুলিশ যখন প্রিয়ার মৃত্যুকে স্রেফ একটা ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ বলে ফাইল বন্ধ করে দিতে চায়, তখন এই দুই বন্ধু ঝাঁপিয়ে পড়ে এক অন্ধকার জগতের সন্ধানে।
চেতনের লেখার মুন্সিয়ানা এখানেই যে তিনি দিল্লি শহরের চকচকে উচ্চবিত্ত পরিবারের পর্দার আড়ালের পচনকে কত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। সৌরভের ঘরের সেই থমথমে পরিবেশ, প্রিয়ার অকাল মৃত্যুর বিষণ্ণতা আর ধূপকাঠি পোড়া গন্ধের মধ্যে চাপা পড়ে থাকা রহস্যের প্রতিটি মুহূর্ত লেখক এমনভাবে গেঁথেছেন যে মনে হয় পাঠক নিজেই সেই অপরাধের সাক্ষী। একটি দৃশ্যে কেশব যখন প্রিয়ার মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে সৌরভকে বলে, “বন্ধু, ভালোবাসা অনেক সময় অন্ধ হয়, কিন্তু সত্য কখনো মিথ্যে হতে পারে না,” তখন বোঝা যায় এই বই আসলে সম্পর্কের চেয়েও বেশি কিছু নিয়ে।
‘One Arranged Murder’ আসলে আমাদের সমাজের সেই ক্ষতকে দেখায়, যেখানে ‘লোক কি বলবে’ এই ভয় মানুষের বিবেককে খুন করে। বইটির মূল যুক্তি হলো, সম্পর্কের সমীকরণগুলো যখন ক্ষমতার আর সম্মানের মোড়কে ঢাকা পড়ে, তখন সেখানে ভালোবাসার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নিজেকে বাঁচানোর খেলা। চেতনের লেখনীতে বিশেষ করে যখন তিনি রহস্যের গিঁট খোলেন, তখন বাক্যগুলো তীরের মতো সোজা হৃদয়ে বিঁধে যায়।
যিনি রহস্য উপন্যাসের গভীরে ডুব দিতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই কাহিনী এক অমোঘ হাতছানি। সৌরভ আর কেশবের এই বন্ধুত্ব আর প্রিয়ার রহস্যময় মৃত্যুর শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে আপনাকে জানতেই হবে, সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? সেই গোপন সত্য কি কেবল একটি খুনের গল্প, নাকি এটি একটি আস্ত পরিবারের মুখোশ খুলে দেওয়ার আর্তনাদ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে আপনাকে পড়তে হবে এই বই।