যযাতি
দ্বারা গিরিশ কারনাড
যযাতি
Bhakti Yoga is a profound exploration of the path of devotion, presenting love, surrender, and spiritual discipline through the teachings of Swami Vivekananda.
এই বইটি সম্পর্কে
স্বপ্ন সারথি, যা যযাতি নামেও পরিচিত, গিরিশ কারনাডের প্রথম নাটক, যা কন্নড় ভাষায় রচিত। এটি মহাভারতের যযাতির গল্পটি পুনরায় বলে, যিনি অকালে বার্ধক্যের অভিশাপ পেয়েছিলেন।
মূল অন্তর্দৃষ্টি
গিরিশ কারনাডের লেখা ‘Yayati’ নাটকের কথা ভাবলে খুব কম মানুষই জানেন যে, এটি আসলে তাঁর কর্মজীবনের একদম শুরুতে লেখা একটি কাজ, যা তিনি লিখেছিলেন মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে! অথচ এর ভেতরে যে গভীর দার্শনিক বোধ আর বয়সের ভার ফুটে উঠেছে, তা যেন কোনো এক অভিজ্ঞ ঋষির লেখা।
[short pause]
রাজপ্রাসাদের অন্দরমহল। ধূপের ধোঁয়া আর চন্দন কাঠের গন্ধে ভারী হয়ে আছে বাতাস। প্রদীপগুলো যেন কাঁপছে এক অজানা আশঙ্কায়। রাজা যযাতি, যার তারুণ্যের অহংকার মুহূর্তে ভেঙে পড়েছে শুক্রাচার্যের অভিশাপে। তিনি বৃদ্ধ, জরাগ্রস্ত, অথচ তাঁর ভোগের তৃষ্ণা মরুভূমির বালির মতো অসীম। তিনি চেয়ে বসলেন তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র পুরু’র যৌবন।
একটি দৃশ্য আছে যা ভুলবার নয়। বৃদ্ধ পিতা যখন যুবকের সামনে হাত পাতলেন, তখন পুরু’র কণ্ঠস্বরে কোনো দ্বিধা ছিল না। পুরু বলে, “পিতা, আপনার তৃষ্ণা যদি জীবনের চেয়েও বড় হয়, তবে এই যৌবন আপনারই থাকুক।” যযাতি তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ঝুলে পড়া চামড়ার দিকে তাকিয়ে ভাবছেন, “আমি কি সত্যিই সবটুকু পেতে পারি? নাকি এই পাওয়ার নেশাই আমাকে রিক্ত করে দিচ্ছে?”
গিরিশ কারনাড এখানে মানুষের চিরন্তন দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখনী শাণিত, অনেকটা ক্ষুরের মতো। তিনি লিখেছেন— “তৃষ্ণা কখনোই তৃপ্ত হয় না, ঠিক যেমন আগুনের শিখা ঘি পেলেই আরও বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠে।” [medium pause]
‘Yayati’ নিছক কোনো পৌরাণিক কাহিনি নয়; এটি আমাদের সমাজের সেই অন্ধ আয়না যেখানে আমরা দেখি— ক্ষমতা আর আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা কতখানি একা হয়ে পড়েছি। এখানে ত্যাগের মাহাত্ম্য আছে, আবার আছে ভোগের অন্ধকারের ভয়াবহতা। কারনাডের এই নাটক আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অমরত্ব বা চিরযৌবনের পেছনে ছোটা আসলে নিজেকে ধ্বংস করার নামান্তর।